World Preeclampsia Day 2026
গর্ভাবস্থায় প্রি-এক্লাম্পসিয়া: লক্ষণ, ঝুঁকি ও করণীয়
বিশ্ব প্রি-এক্লাম্পসিয়া দিবস ২০২৬ | World Preeclampsia Day 2026 | ২২ মে
স্লোগান: সুস্থ মা, নিরাপদ ভবিষ্যৎ
গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ বা প্রি-এক্লাম্পসিয়া (Preeclampsia) মা ও অনাগত শিশুর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি। অনেক সময় গর্ভবতী মায়েরা মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, শরীর ফুলে যাওয়া বা হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণকে সাধারণ সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। কিন্তু এসব লক্ষণ গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপের সতর্ক সংকেত হতে পারে।
প্রি-এক্লাম্পসিয়া সাধারণত গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের পর দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় মায়ের রক্তচাপ ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি হতে পারে এবং প্রস্রাবে প্রোটিনের উপস্থিতি, কিডনি বা লিভারের সমস্যা, মাথাব্যথা ও দৃষ্টির সমস্যার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে নিয়মিত গর্ভকালীন চেকআপ অত্যন্ত জরুরি।
প্রি-এক্লাম্পসিয়া কী?
প্রি-এক্লাম্পসিয়া হলো গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপজনিত একটি জটিল অবস্থা, যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এটি শুধু রক্তচাপ বৃদ্ধির সমস্যা নয়; বরং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন কিডনি, লিভার, মস্তিষ্ক এবং প্লাসেন্টার রক্তপ্রবাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রি-এক্লাম্পসিয়ার লক্ষণ
গর্ভবতী মায়ের নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
- উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তচাপ ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি হওয়া
- তীব্র মাথাব্যথা
- চোখে ঝাপসা দেখা বা আলো ঝলকানি দেখা
- হাত, পা বা মুখ হঠাৎ ফুলে যাওয়া
- পেটের ডান উপরের অংশে ব্যথা
- হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া
- বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত দুর্বলতা
কারা প্রি-এক্লাম্পসিয়ার বেশি ঝুঁকিতে থাকেন?
গর্ভাবস্থায় কিছু মায়ের প্রি-এক্লাম্পসিয়া হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। যেমন প্রথমবার গর্ভধারণ, পূর্বে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, অতিরিক্ত ওজন, যমজ বা একাধিক সন্তান গর্ভে থাকা, পরিবারে প্রি-এক্লাম্পসিয়ার ইতিহাস অথবা ৩৫ বছরের বেশি বয়সে গর্ভধারণ।
মা ও শিশুর জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি
প্রি-এক্লাম্পসিয়া সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে মায়ের ক্ষেত্রে খিঁচুনি, স্ট্রোক, কিডনি বা লিভারের জটিলতা তৈরি হতে পারে। শিশুর ক্ষেত্রে কম ওজন, সময়ের আগে জন্ম, অক্সিজেনের ঘাটতি বা গর্ভে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই গর্ভবতী মায়ের যত্নে প্রি-এক্লাম্পসিয়ার লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রি-এক্লাম্পসিয়া প্রতিরোধ ও করণীয়
প্রি-এক্লাম্পসিয়া সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সব সময় সম্ভব না হলেও নিয়মিত গর্ভকালীন চেকআপ, রক্তচাপ পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলোআপের মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া বা চিকিৎসা বন্ধ করা উচিত নয়।
নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য গর্ভবতী মায়ের উচিত নিয়মিত ANC চেকআপ করা, রক্তচাপ ও ওজন মাপা, প্রস্রাব পরীক্ষা করা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া।
প্রি-এক্লাম্পসিয়া সম্পর্কে সচেতনতা মা ও শিশুর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, শরীর ফুলে যাওয়া বা পেটের উপরের অংশে ব্যথা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সচেতন থাকুন, নিয়মিত গর্ভকালীন চেকআপ করুন — সুস্থ মা, নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন।